The following article explains a little bit about the position and usage of 'Dhrupad' in the North Indian Classical Music scene.The article is written in Bangla.
উত্তর ভারতীয় সঙ্গীতে ধ্রুপদের স্থান
নাট্যশাস্ত্রে গান্ধর্ব্য এবং গান অর্থাৎ গীতক এবং ধ্রুবার তত্ত্বের আধারে প্রাচীন শাস্ত্রীয় ‘প্রবন্ধ’ গানের বিকাশ হয়।
গান্ধর্ব্য থেকে স্বর, তাল এবং পদ – এই তিনটি তত্ত্ব এবং গান থেকে রস, ভাব, প্রকৃতি ইত্যাদি অনুসারে নিয়ত ছন্দে পদযোজনা করে তাকে গেয় রূপ প্রদান করা – ইত্যাদি বিষয়গুলিকে নিয়ে প্রবন্ধ গানের স্বরূপ তৈরী হল। গান্ধর্ব্যে গেয় অংশ এবং গানের পদাংশের প্রাধান্য ছিল। পরবর্ত্তী কালে প্রবন্ধ রচনায় ধাতু-মাতু যুক্ত করেন বাগ্গেয়ঙ্কার।
ধাতু – প্রবন্ধ গানে চারটি ধাতু যথাক্রমে উদ্গ্রাহ, মেলাপক, ধ্রুব এবং আভোগ।
অঙ্গ – শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মতো প্রবন্ধ রূপী পুরুষের বিভিন্ন অঙ্গের উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন স্বর, বিরুদ, পদ, তেন, পাট এবং তাল। এর মধ্যে তেন এবং পদ নেত্র স্থানীয়, বিরুদ এবং পাট হস্তস্থানীয় তথা স্বর এবং তাল। বিভিন্ন স্বরের বাচক স, রি, গ ইত্যাদি।
প্রবন্ধ গানের ৬টি অঙ্গ থেকে তালকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ঠ ৫টি তে মাতু অর্থাৎ শব্দ রচনার কথা বলা হয়েছে। তালের দ্বারা প্রবন্ধ গান বিশেষ প্রভাবিত হয়। যদিও ধাতুর মতো স্বরও তালের মতো সর্ম্পূণ ব্যপ্ত হয়ে যায়। ‘সঙ্গীত রত্নাকর’ গ্রন্থে প্রবন্ধের চারটি ধাতুর কথা বলা হয়েছে। প্রবন্ধগুলিতে বৈচিত্র ছিল, কিন্তু মধ্যযুগে প্রবন্ধ রচনায় সরলতা, সংক্ষিপ্তকরণের প্রবৃত্তি দেখা দেওয়ায় প্রবন্ধের পরম্পরা বিঘ্নিতহ হয়।
ধ্রুবপদ বা ধ্রুপদ গানের লক্ষন সর্বপ্রথম মধ্যযুগীয় গ্রন্থ অনূপ-সঙ্গীত রত্নাকর গ্রন্থে পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে সংস্কৃত অথবা মধ্যদেশীয় ভাষায় রচিত, দুইটি বা চারটি পংত্তিতে স্ত্রী-পুরুষের আলাপচারিতা যুক্ত পদ, রাগালাপ যুক্ত অন্ত্যানুপ্রাস, যমকযুক্ত তথা উদগ্রাহ, ধ্রুব এবং আভোগের সঙ্গে যুক্ত ধ্রুবপদ রচিত হতো। ঘনাক্ষরী পদ রচনায় অক্ষর হ্রস্ব বা দীর্ঘ হলেও সব ক্ষেত্রেই হ্রস্ব রূপটিই গৃহিত হতো। কবিবর সুমিত্রা নন্দন পন্থ এ ধরণের রচনাকে ‘ঘনাক্ষরী’ আখ্যা দিয়েছেন।
বর্তমান কালে ধ্রুপদের গায়ন-শৈলীর যে স্বরূপ দেখা যায় তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয় সঙ্গীত-রত্নাকরে বর্ণিত আলপ্তির সঙ্গে। তদনুসারে ধ্রুপদ গান চারটি চরণে সীমাবদ্ধ ছিল। প্রথম চরণে রাগালপ্তি অর্থাৎ নোম্ তোম্ শব্দে রাগালাপ। দ্বিতীয় চরণে ধ্রুপদের প্রবন্ধ অর্থাৎ গীত। তৃতীয় চরণে লয়ের প্রয়োগ অর্থাৎ লয়বাঁট এবং চতুর্থ চরণে ভঞ্জনী রূপকালপ্তি অর্থাৎ বোলবাঁট। আলাপ অংশে নোম্, তোম্, রী, তানা, দিরি, নুম্ ইত্যাদি শব্দগুলি রাগের গায়কী তথা রাগের আলাপচারিতায় প্রয়োগ করা হয়। নোম্, তোম্, নোং, তোং, রী, তন, দিরি, নুম্ ইত্যাদি শব্দগুলির সম্বন্ধ ঈশ্বরের বাচক ওম্, ত্বম্ অনন্তম্ হরি।
মীড় গমক যুক্ত আলাপ শুরুতে লয় রহিত থাকলেও ক্রমশঃ লয়বদ্ধ হয়ে যায় এবং শেষের দিকে আলাপে গমক যুক্ত তানেরও ব্যবহার হয়। এর পর ধ্রুপদ গায়ন শুরু হয়।
ধ্রুপদ গানের চারটি খন্ড যথাক্রমে – স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চাবী এবং আভোগ।
ধ্রুপদ গানের আশ্রয় স্থল –
প্রাচীনকালে ধ্রুপদ গানের দুইটি প্রধান আশ্রয় স্থল ছিল বৈষ্ণব মন্দির এবং রাজ দরবার। পরবর্ত্তী কালে ধ্রুপদ গায়নের এই দুটি শৈলীর আদান প্রদানের মধ্যে ধ্রুপদ গান আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। সেকালে ধ্রুপদ গায়নের সঙ্গে নৃত্য সহযোগের কথাও শোনা যায়। ভাবভট্টের গ্রন্থ “সঙ্গীত-অনুপাংকুশ” গ্রন্থেও ধ্রুপদ গানের সঙ্গে নৃত্য সহযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়। ধ্রুপদ গানে ডাগর, খন্ডার, নৌহার এবং গোরবাহার বাণীর (wording) ব্যবহার হয়।
About the author - The writer of this article is Mr. Ramendra Nath Dey. Mr. Dey has pursued his education from the Rabindra Bharati University (Calcutta) and the Bhatkhande Sangeet Vidyapeeth (Lucknow). He is a disciple of the illustrious Late Shri Jnan Prakash Ghosh. He has taught and practiced North Indian Classical Music for over three decades. Currently he is retired and lives in Kolkata. This article can be discussed here.
| < Prev | Next > |
|---|































